অমিত সরকার, কলকাতা: দেশের সমস্ত পেঁয়াজ চাষীদের জন্য রয়েছে বড় সুখবর। কেন্দ্রীয় সরকার অবশেষে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থেকে তুলে নিলো সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন সূত্রে জানা হয়ে গেছে যে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকেই নাকি পেঁয়াজ রপ্তানির উপর যে ২০ শতাংশ শুল্ক রাখা হয়েছে, সেটি পুরোপুরিভাবে তুলে নেওয়া হবে। আর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে। আসলে এই বিষয়ে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে কিন্তু দাবি করেছিল, যা অবশেষে পূর্ণ হতে চলেছে।
কৃষকদের দাবি পূরণ
এশিয়ার বৃহত্তম পেঁয়াজ বাজার এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁওয়ের কৃষকরা। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই রপ্তানি নিষেধ বিধি নিষেধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল। তাদের মূল দাবি ছিল 2023 সালের ডিসেম্বর মাসে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তা বাজারের সরবরাহ সংকট সামাল দিতে যথেষ্ট ছিল, তার মেয়াদ অযথা দীর্ঘ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে সেই কৃষকদের অভিযোগের ফলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশেষ সরকার চাপের মুখে পড়েই সেই ২০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল।
পেঁয়াজের দামের পতন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী এই মাস থেকে মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও ও পিম্পলগাঁও বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে যার ফলে বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেকটাই কমে গেছে। সে ক্ষেত্রে গত ২১ শে মার্চ রাসেলগাঁও বাজারে পেঁয়াজের মডেল মূল্য ছিল ১৩৩০ টাকা/ কুইন্টাল আর পিম্পলগাঁও এ ১৩২৫ টাকা/কুইন্টাল।
আরো পড়ুন: আবাস যোজনা প্রকল্পে বিশাল ঘোষণা! ৩.৫৩ লক্ষ বাড়ির অনুমোদন দিল কেন্দ্র
তবে এখন মূল সমস্যা হল যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সে ক্ষেত্রে কিন্তু কৃষকদের উৎপাদনের খরচের চেয়ে অনেক কম। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী এক কুইন্টাল পেঁয়াজ উৎপাদনের গড়ে ২২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর বর্তমানে যে বাজারদর রয়েছে সেই বাজারদরে বিক্রি করলে তাদের প্রচুর লোকসান হবে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাদেশে গত এক মাসে পাইকারি পেঁয়াজের দাম গড়ে ৩৯ শতাংশ কমেছে, তবে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম গড়ে ১০% কমেছে।
ভবিষ্যৎ বাজার
বিশেষ করে এবারে রবি মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন প্রচুর পরিমাণে বেড়েছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের হিসেবে ২০২৫ সালের রবি মৌসুমের পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছে 22.7 মিলিয়ন টন, যা গত বছরের 19.2 মিলিয়ন টনের তুলনায় ১৮% বেশি। আর এই বাড়তি পেঁয়াজ উৎপাদনের ফলে কিন্তু বাজারে সরবরাহ বেড়েছে আর তার ফলে দামের পতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে যতই রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার ফলে কৃষকরা হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে যেহেতু এবারের ফসল অনেকটাই বেশি উৎপন্ন হয়েছে তাতে করে কিন্তু আগামীদিনেও দামে তেমন কোন বড় উত্থান নাও আসতে পারে। এবার দেখার বিষয় শুল্ক প্রত্যাহারের পর বিশ্ববাজারে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি কতটা বাড়ে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার কতটা উন্নতি হয়।