অমিত সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে এই সময় শিক্ষার্থীদের তীব্র গরম থেকে রক্ষা করার জন্যই স্কুলের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তীব্র তাপদেহ চলছে সেই কারণেই শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই স্কুলের সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বেশ কিছু জেলায় 16 এপ্রিল থেকে স্কুলের নতুন সময়সূচি চালু করা হবে।
১৬ এপ্রিল থেকে স্কুলের সময় সীমা
- সোমবার থেকে শুক্রবার- সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে স্কুলগুলি সকাল ৬:৩০ মিনিট থেকে ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
- শনিবার- শনিবার দিনগুলিতে স্কুল খোলা থাকবে সকাল ৬:৩০ মিনিট থেকে সকাল 9:30 পর্যন্ত।
- মিড ডে মিল- সরকারের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের মিড ডে মিল পাবে।
স্কুলের সময়সীমা পরিবর্তনের কারণ?
পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ জায়গাতে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে বিভিন্ন জেলায় তৈরি হচ্ছে তীব্র তাপদাহ বা লু। যেমন পশ্চিম মেদিনীপুরের মত কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে 39.46 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। এবং হাওয়া অফিসের খবর অনুযায়ী এখানকার তাপমাত্রা আগামী দিনে আরও বাড়বে।
আর এই সময় যদি স্কুলের সময়সূচি না বদলানো হয় তাহলে বিপদে পড়তে পারে বাচ্চারা। তাই সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জানা গেছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংসদ পশ্চিম মেদিনীপুরের স্কুলের সময় পরিবর্তন করেছে। এরকম তাপদাহ আরো বাড়তে থাকলে আরো পরিবর্তন ঘোষণা করা হতে পারে।
এপ্রিল মাসে স্কুলের জন্য ভিন্ন রুটিন
প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড এপ্রিল মাস থেকে কিন্তু স্কুলের জন্য দুই ধরনের দৈনন্দিন রুটিন চালু করেছে। যেমন কিছু কিছু স্কুলে সকালে ক্লাস হবে আবার অন্যরা নিয়মিত দিনের সময়সূচী অনুসরণ করবে। তবে এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের ৫০০০০ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তবে এই দু ধরনের নিয়ম দেখে অনেকের মনেই নানা রকম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন অনেকেরই আবার মনে হচ্ছে যে সকালে সময়সূচি নিয়ে খুশি, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটি সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে এমন সময় সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ ঘোষণা করেছে যে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সরকার বা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক আরো কোন নির্দেশ জারি করা হলে নতুন পরিবর্তন আনা হবে। তবে বর্তমান সময়ে শিক্ষা বোর্ডের এই নিয়ম মেনে চলতে হবে সকলকে।