সুমি রায়, কলকাতা: বর্তমানে মানুষ যেমন এন্ড্রয়েড ফোন ছাড়া চলতে পারেনা তেমনি এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতে কিন্তু লাগে ইন্টারনেট। দিন দিন এই ইন্টারনেটের স্পিড আস্তে আস্তে বাড়ছে। তবে এবার মনে করা হচ্ছে আরও উন্নত ইন্টারনেট পরিষেবার যুগ শুরু হতে চলেছে ভারতে।। এলন মাস্কের স্পেসএক্স সংস্থার স্যাটেলাইট ভিত্তি ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ক এবার ভারতে চালু হতে চলেছে। আসলে ভারতের যে সমস্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, ইন্টারনেট সংযোগ উন্নত করার জন্য এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখন অনেকের মনে করছেন এই Starlink – এ খরচ কত হবে? ইন্টারনেট স্পিড কেমন হবে? এ সমস্ত ইত্যাদি বিষয়ে আমরা এখন জেনে নেব।
Starlink ভারতে কবে চালু হবে?
বিভিন্ন সংবাদসূত্রের খবর অনুযায়ী ভারতবর্ষে এই পরিষেবা চালু করার জন্য সরকারি অনুমোদন প্রায় নিশ্চিত। সরকারের বিভিন্ন রকম শর্ত এবং নিয়ম মেনে কিন্তু এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখনো কিন্তু চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা করছে সংস্থা। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া মাত্রই ভারতীয় বাজারে এই পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। তবে অনেকেই মনে করছেন যে 2025 সালের মধ্যে এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পরিষেবা চালু হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ভারতের গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত এলাকা গুলিতে এই পরিষেবা উচ্চ গতির ইন্টারনেট নিয়ে আসবে।
কার কার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই সংস্থা?
ভারতে এই স্টারলিঙ্ক চালু করার জন্য ভারতের টেলিকম জগতের রিলায়েন্স জিও এবং এয়ারটেল এর মধ্যে ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। জিও পরিকল্পনা করছে যাতে তাদের ব্রডব্যান্ড পরিষেবার সঙ্গে স্টারলিংক যুক্ত করা যায়। অন্যদিকে এয়ারটেলও চাইছে তাদের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্টারলিংক ইন্টিগ্রেটেড করতে।
তবে এই দুই সংস্থা তাদের অনলাইন এবং অফলাইন স্টোরে স্টারলিঙ্ক পরিষেবা বিক্রি করা শুরু করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই চুক্তির ফলে ভারতীয়রা আরো উন্নত ইন্টারনেট পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
ইন্টারনেটের স্পিড কেমন হবে?
স্টারলিঙ্ক পরিষেবা ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে চালু হয়ে গিয়েছে।যার স্পিড হল প্রতি সেকেন্ডে ২৫ থেকে ১০০ এমবিপিএস। এবার আমরা দেখে নেব অন্যান্য দেশে স্পিড কেমন এবং কত টাকায় পাওয়া যায়।
- অস্ট্রেলিয়া- ৭৮০০ টাকায় ২০০ এমবিপিএস+ স্পিড পাওয়া যায়।
- মালয়েশিয়ায় ৩৮০০ টাকায় ২৫ থেকে ১০০ এমবিপিএস স্পিড পাওয়া যায়।
- ভুটানে ৩,০০০ টাকায় ২৩ থেকে ১০০ এমবিপিএস স্পিড পাওয়া যায়।
- তবে মনে করা যাচ্ছে ভারতেও ২৫ থেকে ১০০ এমবিপিএস স্পিড পাওয়া যেতে পারে যা অন্যান্য পরিষেবার তুলনায় অনেক বেশি।
ভারতের খরচ কেমন হবে?
এই পরিষেবা বিভিন্ন দেশ অনুযায়ী খরচের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। তারা অনেকে মনে করছে যে ভারতের প্রাথমিক প্ল্যানে সম্ভাব্য হয়তো খরচ হতে পারে ৪,২০০ টাকা প্রতি মাসে। যেমন ভুটানের খরচ হচ্ছে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা, অস্ট্রিয়ায় খরচ হচ্ছে ৪৭০০ টাকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খরচ হচ্ছে ৭০০০ টাকা, এবং জাম্বিয়ায় খরচ হচ্ছে ২০০০ টাকা।
আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ার ফিল্টার ব্যবহারে বাড়ছে মানসিক চাপ! গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য
যেহেতু প্রতিমাসে একটা ভালো অংকের টাকা খরচ করতে হবে তাই ভারতে পরিষেবা চালু হলেও বহু মানুষ এই পরিষেবা নিতে পারবে কি পারবে না তা কিন্তু খরচের ওপরে নির্ভর করবে। যদিও এই পরিষেবায় খরচ একটু বেশি তবে এই পরিষেবায় স্পিড এবং অন্যান্য সুবিধা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই উন্নত।