অমিত সরকার, কলকাতা: প্রতিবছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আর সেই দিন আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। জায়গায় জায়গায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা শুরু হবে, এমনকি একাধিক স্থানে এই অনুষ্ঠানের তোরজোর শুরু হয়ে গিয়েছে। বাদ পড়েনি বাংলাও। বাংলায় এই দিনকে কেন্দ্র করে একের পর এক কর্মসূচি পালন করা চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বাংলার সাধারণ মানুষদের জন্য একাধিক জনদরদী প্রকল্প চালু করেছে ঠিক তেমনি বাংলার মেয়ে এবং মহিলাদের জন্য একাধিক প্রকল্পের আয়োজন করেছেন তিনি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হল কন্যাশ্রী প্রকল্প। বর্তমানে রাজ্য সরকার বাল্যবিবাহ এবং মেয়েদের স্কুলছুট রুখতে কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা প্রদান এর ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের উদ্যোগী হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য একজন আবেদনকারী যেন কোন অসুবিধায় না পড়ে, তাই রাজ্যের এই উদ্যোগ।
কত টাকা পায় ছাত্রীরা?
আসলে কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল বড়ুয়ার ছাত্রীদের মধ্যে যারা ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী রয়েছে তারা বছরে ১০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পায় রাজ্য সরকারের কাছ থেকে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ছাত্রীদের বয়স যখন ১৮ বছর হয়ে যায় এবং তারা যদি অবিবাহিত থেকে থাকে এবং সফলভাবে পড়াশুনা চালিয়ে যায় তাহলে তারা এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে পেয়ে থাকেন। এই কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয়েছে ১১ বছর ধরে। এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন প্রায় ৯০ লক্ষ কন্যা। শুধুমাত্র ২০২৪-২০২৫ সালে এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০০ টাকার বার্ষিক বৃত্তির জন্য অধিভুক্ত হয়েছেন ১৫ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ছাত্রী। ২ লক্ষ ১০০০ ছাত্রী পেয়েছেন এককালীন ২৫ হাজার টাকার সুবিধা। রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী এবছর মোট ৫৯৩ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার বেশি বন্টন করা হয়েছে।
কন্যাশ্রী প্রকল্পে এআই যুক্ত করার কারণ?
কন্যাশ্রী প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর। প্রতিবছর নতুন করে লক্ষাধিক ছাত্রী তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করিয়ে যথাসময়ে তাদের টাকা তাদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়। এক একজন উপভোক্তার নাম, ঠিকানা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সহ এমন অত্যন্ত 30 থেকে 35 টি বিষয় পোর্টালে তোলার প্রয়োজন পড়ে। ফলে একাধিকবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু তথ্য ভুল নথিভুক্ত হয় যার ফলে সমস্যার পরে সেই ছাত্রীরা। এক্ষেত্রে দুই ছাত্রীর একই ব্যাংক একাউন্ট নম্বর থাকার মতো সমস্যাও সামনে আসে, এইসব কারণে রাজ্য না চাইলেও কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সুবিধার প্রদান দেরি হয় অথবা ছাত্রছাত্রীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
এরা তো জানুয়ারি মাসে ‘স্টুডেন্টস উইক’ এর অনুষ্ঠান থেকে ইউনাইটেড নেশনস এর সেরা শিরপা প্রাপ্ত কন্যাশ্রী প্রকল্প পেতে যাতে কারো অসুবিধা না হয় তাই তিনি বার্তা দিয়েছিলেন। আর বর্তমানে তার নির্দেশ অনুযায়ী একেবারে অতিসামান্য সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারে কার্য শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা যায় যে সামান্য সফটওয়্যার ব্যবহার করে আবেদনকারীদের পাহাড়-প্রমাণ তথ্য মিলে দেখে এই সমস্ত ত্রুটি চিহ্নিত করা কার্যত অসম্ভব আর এখানেই এআইয়ের প্রয়োজন পড়ছে।