অমিত সরকার, কলকাতা: ভারতের নির্বাচন পদ্ধতি এবং ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে বহুদিন ধরে চলছিল বিতর্ক। ভুয়ো ভোটার, অবৈধ ভোটার, মৃত ব্যক্তির নামে ভোট প্রদানের সমস্ত অভিযোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিরোধীদল থেকে শাসকদল সবাই প্রশ্ন তুলছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা নিয়ে আসার জন্য। এমনও পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ এবং নির্ভুল করতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভোটার কার্ডের সঙ্গে এবার আধার লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিল?
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এবার ভোটার আইডি কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক বাধ্যতামূলক করতে চলেছে। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী বা ভুয়া ভোটার নির্মূল করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের ৩০ তারিখের মধ্যে জাতীয় এবং রাজ্য স্তরের রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের অভিযোগ দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।। মনে করা হচ্ছে ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্কিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় এবার আরো নির্ভুল হবে পাশাপাশি একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় ভোট দেওয়া আটকানো যাবে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ?
প্রতিটি নির্বাচনের পর অভিযোগ উঠে যে অনেক মৃত ব্যক্তির নামে ভোট হয়ে গেছে, আবার অনেক খেতে দেখা যায় একজন ব্যক্তি দু জায়গায় ভোট দিয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জীবিত মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এই ধরনের অভিযোগ বহুবার এসেছে সম্প্রতি তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলীয় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছেন।
যেমন তৃণমূল দাবি করছে যে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিজেপি শাসিত রাজ্যের অনেক মানুষের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অপরদিকে বিজেপি পাল্টা অভিযোগ করছে যে বাংলার ভোটার তালিকায় নাকি ১৩ লক্ষরও বেশি ডুপ্লিকেট ভোটার রয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে এবং ভোটার সমস্যা দূর করার জন্যই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে।
কিভাবে ভোটার আধার লিঙ্ক করবেন?
যদি সরকার এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করে তাহলে ভোটাররা খুব সহজেই বাড়িতে বসে অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করতে পারবে।
- প্রথমে NVSP অফিশিয়াল পোর্টালে যেতে হবে।
- তারপর “Voter ID-Aadhaar Link” লিংকে ক্লিক করতে হবে।
- তারপর সেখানে ভোটার আইডি কার্ড এবং আধার নম্বর দিতে হবে।
- মোবাইলের মাধ্যমে OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন এবং সাবমিট করতে হবে।
- অনলাইনে যদি কারো কোন সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে নিকটবর্তী BLO অফিসে গিয়েও আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ডের ফটোকপি দিয়ে লিংক করতে পারবেন।
আসলে সরকারের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করলে ভোটার তালিকার ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এছাড়া ভোটের সময় ভুয়ো ভোটার ইস্যু কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিরোধীদের আপত্তি থাকায় এই নিয়ম চালু করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি সত্যিই এই পদক্ষেপ ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থায় আনা হয় তাহলে অবশ্যই স্বচ্ছতা আসবে।