অমিত সরকার, কলকাতা: যত দিন যাচ্ছে ততই যেন গরমের দাপট বেড়ে চলেছে। গরম পড়তে না পড়তে শুরু হয়ে গেছে দম বন্ধ করা পরিস্থিতি। সাধারণত এপ্রিল থেকে মে মাসে তাপ প্রবাহের তাণ্ডব বেশি দেখা যায় কিন্তু বর্তমানে মার্চের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পারদ ৪০ এর ঘর ছুয়ে গেছে।
আর এই গরমের মধ্যেই নাজেহাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। এমত অবস্থায় যাদের রাস্তায় নেমে কাজ করতে হয় তাদের অবস্থা একবার ভেবে দেখুন। আমরা বাড়িতে ফ্যানের নিচে ঠিকমতো থাকতে পারি না তাহলে যারা রাস্তায় নেমে কাজ করে, তাদের অবস্থা কিরকম শোচনীয় হয়। আর এই কারণেই নবান্ন থেকে ঘোষণা করা হয়েছে এবার থেকে রাজ্যের নির্দিষ্ট সরকারি কর্মীদের ৮ ঘন্টা নয় বরং তার চেয়েও আরো কম ঘন্টা ডিউটি করতে হবে।
সরকারি কর্মীদের ডিউটি সময় কমে গেল
অনেকেই মনে করেন সরকারি চাকরি মানে এসি ঘরে বসে কাজ করা। আসলে তা একেবারেই নয় সরকারি কাজে যেমন এসি ঘরে বসে কাজ করা রয়েছে তেমন বহু সরকারি বিভাগ রয়েছে যেখানে কর্মীরা প্রচন্ড গরমে রাস্তায় নেমে কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে যেমন ট্রাফিক পুলিশ, পৌরসভা কর্মী, জরুরী পরিষেবার কর্মী, অন্যান্য ফিল্ড ওয়ার্কার ইত্যাদি। তবে এবার সরকার সে সমস্ত কর্মীদের তাপপ্রবাহের কষ্ট থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এবার থেকে আট ঘন্টার জায়গায় ৬ ঘন্টা ডিউটি করতে হবে তাদের।
আরও পড়ুন: বেতন বৃদ্ধি হতে পারে ৬৫,৮৪৪ টাকা! লেভেল ৬ কর্মীদের ভাগ্য খুলছে
কেন এমন সিদ্ধান্ত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছে এবছর গরমের প্রখর স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি হবে। যেখানে মার্চ মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে চলে গিয়েছে ফলে এপ্রিল মে মাসে কি হতে চলেছে। আর তার জন্য কিন্তু হিটস্ট্রোক এবং অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই রাস্তায় কর্মরত ব্যক্তিরা তীব্র গরমে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর এই কারণে তাদের ডিউটির সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে নবান্নর পক্ষ থেকে। বিভিন্ন ফিল্ডে কাজ করে অর্থাৎ রোদে মধ্যে তাদের বেশিরভাগ সময় থাকতে হয় সেই সমস্ত সরকারি কর্মীদের জন্য এটি একটি বড়ই স্বস্তির খবর।
কারা কারা পাবে এই সুবিধা?
রাজু সরকারের তরফ থেকে এই বিশেষ সুবিধা শুধুমাত্র যারা রাস্তায় কাজ করে তাদের জন্যই কার্যকর হবে। যেমন ট্রাফিক পুলিশদের জন্য এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে। আগে যেখানে তাদের ৮ ঘন্টা ধরে কাজ করতে হতো এখন সেটা কমিয়ে ৬ ঘন্টা করা হয়েছে অর্থাৎ তাদের দু’ঘণ্টা কম কাজ করতে হবে এটা কিন্তু একটা দারুন সুখবর।